একটি অপরিশোধিত জন্মদিন

সম্পর্ক গুলা কেমন জানি। দুর্গন্ধ অথবা সুগন্ধ। যেভাবেই থাক’না কেন ঠিকই ছড়িয়ে পড়বে।

দিন খন ঠিক মনে পড়ে না। ২০১০ সালের পরে পারিবারিক ভাবে ভূগোলিক পরিবর্তন হয় আমাদের। অর্থাৎ, বাড়ির অবস্থান পরিবর্তন। এর পরে থেকেই একরকম একা একাই থাকি। খুব বেশি কারোর সাথে চলাফেলা করা হয় না। একা থাকার জন্যই হোক আর যে কারনেই হয় মানসিক একটা পরিবর্তন আমার হয়। অনেকটা “ইন্ট্রর্ভাট” ধরণের। একটা সময় পরে আমি খেয়াল করলাম আমার ফিজিক্যালি কথা বলার বা দেখা করার মতো মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। সবার সাথে হয়তো প্রতিনিয়ত দেখা হয়না। এই জিনিষের হাজারটা খারাপ দিকের মধ্যেও একটা ভালো জিনিষ আমি বুঝতে পারলাম। আমি একদমই মিথ্যা কথা বলি না। কারণ মানুষের সাথে তো প্রায় কথায় হয় না। তো মিথ্যা বলবো কখন আর কিভাবে(বর্তমান অবস্থার যদিও কিছুটা পরিবর্তন এসছে)।

happybirthdaygoogle

আমার একার ঘরে বই, কম্পিউটার আর আমি। বেশ বই পড়ে, সিনেমা দেখে সময় কাটে। ভালোই লাগে। না হঠাৎ বড় কোন পরিবর্তন আমার জীবনে হয়নি। যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে, এর মধ্যে কিছু নতুন মুখ, নতুন পরিচয়। মদ্দাকথা, ভালো কিছু মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। যারা সব্বাই নিজের অবস্থানে সু-দৃঢ়। সবারই নিজস্ব কিছু মতার্দশ আছে। যাদের কাছে থেকে নিজের ভুলগুলা শুধরে নেওয়া যায়। হোক সে ছোট কি বড়। জানা যায় জীবনের অদৃশ্য পরীক্ষার মোকাবেলা কিভাবে করতে হবে। যেটা কিনা পরিবার থেকেই শেখার কথা ছিল।

প্রযুক্তির প্রসার আর নিজের অজ্ঞতায় মিলে ফেচবুক, ব্লগ সহ আরো অনেক কিছুর সাথে যুক্ত(যদিও দিন খন করে করা হয়নি)। মূলত জানার জন্য যুক্ত। এই ভার্সুয়াল জগত এর সম্পর্ক গুলা কেমন কেমন মনে হতো আগে। একটা বাটনে টিপ দিলেই বন্ধুত্ব। কেমন মূল্যহীন ব্যাপার খেলনা মতো ব্যাপার। কিন্তু এখন দেখি এগুলারও বাস্তবতা আছে। এই মাধ্যম দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। উপকার-অপকার সব কিছু।

আমাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্কে গুলা অদৃশ্য আবার এই ভার্সুয়াল জগতের সম্পর্ক গুলাও অদৃশ্য(এক অর্থে)। এক দৃষ্টিতে হয়তো দু’টাই একই বন্ধন। মহামানবেরা অনেক কিছু উপেক্ষা করতে পারে। সে ক্ষমতা তাদের থাকে। কিন্তু সাধারণ ভাবে বা বলা ভালো সাধারণ মানুষ প্রায় কোন কিছু উপেক্ষা করতে পারে না বা বলা ভালো সে ক্ষমতা সাধারণ মানুষের থাকে না । আর এই না পারার মধ্যে সব থেকে আগে যেটা থাকে সেটা হচ্ছে “সম্পর্ক”। যা কোন ভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব না। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় মহামানবেরাও সম্পর্কের বাঁধন গুলা উপেক্ষা করতে পারে না। পারার অভিনয় করে। আসলে মহামনবেরা মহাঅভিনেতা হয়। যা সাধারণ মানুষ পারে না। একজন সাধারণ মানুষের(গঠনের দিক দিয়ে) হিসেবে এই অসম্ভাবিও সম্পর্কের অদৃশ্য প্রবলতা, ধরে রাখার প্রচণ্ডতা কোন ভাবেই অপেক্ষা করতে পারিনা।

ফিজিক্যালি কেউ জানেই না এই দিনটি আমার জন্মদিন(যদিও জন্মদিন না)। বাই বাংলাদেশি হওয়াতে আমাদের সবারই দুইটা জন্মদিন দিন থাকে। একটা ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন। আর অন্যটা ইস্কুলে দেওয়া দিন। আমার এই জন্ম তারিখটাও ইস্কুলের দেওয়া তারিখ। যিনি দিয়েছিলেন তার নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। উনি খুবই প্রিয় শিক্ষক ছিলেন না হয়তোবা কিন্তু অন্যার ব্যক্তিত্ব(যদিও তখন ব্যক্তিত্ব কি বুঝতাম না, এখন যে খুব বুঝি তাও না) নামক একটা ব্যাপার ছিল তীব্র। ওনার নাম “রতন কুমার বাকচি।

এই মানুষটা দেওয়া দিনই আমার জন্মদিন হয়ে গেছে। এবং আমি থাকা পর্যন্ত থাকবে(আশা রাখি)। কারণ, আমি আমার ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন খন জানি না। আর জানতেও ইচ্ছে করে না কক্ষনো।

ইচ্ছে করে,
অপারগতার সাথে অভিনয় করে যায়।
দুর্বলতার সাথে অভিনয় করে যায়।
ভালোবাসার সাথে অভিনয় করে যায়।
নিজের সাথে অভিনয় করে যায়।
আয়নার সাথেও অভিনয় করে যায়।
একটা অভিনয়ের মুখোশের স্থায়ী ছাপ ফেলে যায় মুখের উপর।

ছড়িয়ে পড়া সম্পর্ক গুলা, ছড়িয়ে পড়ুক সংক্রমণের মতো।

কি লিখতে চেয়েছিলাম আর কি লিখলাম। এতোটা লিখে ফেলছি আর কেটে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে না।

মূলত লিখতে চেয়েছিলাম, ভালোবাসা উপেক্ষা করতে চাইলেও আমার, আমাদের, আমাদের কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। বিধাতা পুরুষও ভালোবাসা উপেক্ষা করতে পারে না বা পারবে না।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো বা না জানানো প্রতিটি মানুষকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা জানায়।

ভালো মানুষেরা এমনিতেই ত্যাগী হয় তার আর তাদের ট্যাগ করছি না।

Advertisements

Published by

enamulkhanbd

Your Silence will not protect you.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s