প্রণোয়তা

দিন শেষ খুঁজে দেখি হারিয়ে গেছি আম,
রাত হলেই হাতড়ে খুঁজি কোথাই আছো তুমি।
দিনে-রাতে শূন্য সবই, নিস্ক্রিয় আমি,
বিষক্রিয়া হয় না আমার মনোস্ক্রিয়া চলে।
নির্দ্বিধাতে বাঁধা ভেঙ্গে আনবো শরীর মাঝে,
এখন দিনে-রাতে বাড়ছ তুমি আমার হৃদকোমলে।

১৭ জুন ২০১৪ ইং

Advertisements

তুমিহীনতা

আমি আধো ঘুমে তোমার পানে এখনো চেয়ে আছি,
রাত বাড়লেই কষ্ট গুলো আমায় কাঁদাতে আসে।
পাঁশ ফিরে পাঁশবালিশে হাতটা রেখে ভাবি,
থাকলে তুমি আমার কাছে কষ্ট যেত বনবাসে।

সকাল হলেই সব ভুলে যায়, ব্যস্ত থাকি নিজের মাঝে,
নানা কাজে দিনের বেলায় অবহেলায় আসো না তো তুমি।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, আসে গভীর রাত,
আমি আধো ঘুমে তোমার পানে চেয়ে থেকে যায়…।।

‘মা’

তোমার আদরে বাদর হয়েছি, দুষ্টু হয়েছি অনেক।

কতো বকেছো কতো মেরেছো, তাড়িয়ে দিয়েছ বাড়ি থেকে।

সন্ধা কালে খুজে ফিরেছো, ফিরিনি যখন কোলে।

তোমার বলে বলতে শেখা, মাথা উঁচু করে বাঁচা।

হৃদয় ভরা ভালোবাসা তোমার, জগত জুড়ে আছে।

যতই দিয়েছি কষ্ট ব্যাথা, তুমি ততই দিয়েছ ভালোবাসা।

বড় আমি হয়নি মাগো, তোমার কোলের সেই ছোট্ট খোকায় আছি।

তুমি দোআ দিয়ে ভরিয়ে দিও আমার জীবন।

আমি তোমার পায়ে থাকবো লুটিয়ে আমরণ।

 

২৪/১১/২০১৩ ইং

চলো Let’s Go…

গল্পটা চার বন্ধু হরি, শেখর, অসীম ও সঞ্জয়ের। ইস্কুল থেকে এদের বন্ধুত্ব। অসীম-ই এর মধ্যে রোজগার করা ব্যাক্তি ছিল, আগে সে ডাক্তারি করত। তাদের জীবন ছিল একঘেয়েমি পূর্ণ, ভবিষ্যতে কি করবে তার কোন’ই ঠিক ছিল না। তারা শুরু করে বাংলা ব্যান্ড। যেখানে হরি লিড সিংগার। উত্তর বাংলায় একটা শো করতে যেয়ে তারা পাবলিক এর হাতে উত্তম-মাধ্যম খায়। আবারও শুরু হয় তাদের জীবনের একঘেয়েমি। অসীম একটা আইডিয়া দেয়। শেখরকে বলা হয় তোর বাবার কাছে থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে আই। শেখর ঘাড়তেড়ামির জন্য অনেক আগেই ঘর ছেড়েছে। সে যেতে রাজি হয় না। পরে অসীম-ই টাকার জোগাড় করে, শুরু করে “ঘরোয়া ট্রাভেলস” নামে একটা ট্রাভেল এজেন্সি। মাত্র ন’জন যাত্রী নিজে শুরু হয় তাদের “কালিম্পং” যাত্রা। পথে পাহাড়ের রাস্তা থেকে রিয়া নামে একটা মেয়ে তাদের যাত্রা সঙ্গী হয়। ১০জন প্যাসেঞ্জার ১০ রকম দর্শন নিয়ে চলে আর সেই সাথে ওরা চার জন তো আছেই। ফ্ল্যাশ, ফরওয়ার্ড পাশাপাশি রেখে সুন্দর ভাবে চিত্রায়িত হয় ছবিটা। ছবি শেষ হয় ভিন্ন এক সাধে। মানুষের একধারা থেকে বেরিয়ে ভিন্ন কিছু বেছে নিয়ে বেঁচে থাকা। যে অসীম ট্রাভেল ব্যবসার টাকা নিয়ে মানবিকতার কিছুটা বিচ্যুতি হয়েছিল। কিন্তু সেই অসীম-ই নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিল একটা আশ্রমে। এমন বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে পরিচালক সুনিপুণ ভাবে দেখিয়েছেন মানুষের ন্যাচার। মানুষে মানুষে ভিন্নতা।

ছবিটা নিজের জীবনের সাথে মিলে গেল প্রায় শতভাগ। আমারও চার জন বন্ধু আছি। আমাদের কারোর সাথে কারোর ধারা মেলে না। সব থেকে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, আমার চার জন কোন কাজই ঠিক মত করে উঠে পারি না। খুব বেশি হলে তিনজন একমত হয়, আর একজনের থাকে বক্রতা। সেই বক্রতা নির্দিষ্ট একজনের না। এক এক সময় এক একজন সেই ভূমিকা পালন করে।

ছবিতে পরিচিত মুখগুলাঃ- শাশ্বত, রুদ্র, ঋত্বিক, পরম্ব্রত, চুর্নি গাঙ্গলী, কৌশিক গাঙ্গলী, অরিন্দাম সিল, অপরাজিতা ঘোষ, নীল মুখার্জি, বিদিপ্তা চক্রবর্তী, কণিকা ব্যানার্জি সহ আরও অনেকে। ও বিনা নোটিশে এক পলক অঞ্জন দাত্তকে দেখা যায়।

ছবির মিউজিক করেছেন নীল দত্ত। অঞ্জন দত্তের ছবিতে সচারাচার ওর ছেলে নীল দাত্ত’ই মিউজিক করে। গান গেয়েছেনঃ- অঞ্জন দত্ত, শ্রীকান্ত আচার্য, শারান্যা দত্ত, রূপম ইসলাম, নচিকেতা, আয়ান্তিকা রায়, রুপাঙ্কার, উজানি।

ডিরেক্টরঃ- অঞ্জন দত্ত

স্ক্রীনপ্লেঃ- অঞ্জন দত্ত

স্টোরিঃ অঞ্জন দত্ত

সিনেমাটোগ্রাফিঃ ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়

এডিটরঃ মৌনাক ভৌমিক

লিরিকঃ অঞ্জন দত্ত

IMDb

আমার যখন ইচ্ছে করে | সুদীপ রাহা

 

আমার যখন জন্ম নিতে ইচ্ছে করে,

তখন আমি রোদ্দুরের ওপর, জল কাদার ওপর, মাঠের কুয়াশার ওপর শুয়ে পড়ি।

আমার যখন জল তেষ্টা পায় তখন মেয়েদের কথাবার্তা শুনি, বন্ধুর বোনকে নাম ধরে ডাকি, প্রেমিকার পাশে গিয়েও বসি।

আমার যখন হাঁটতে ইচ্ছে করে , রাস্তাকে বলি সোনাঝুরি নিয়ে চলো, প্রেমিকার বাবাকে বলি- তাড়া করুন,

বন্ধুকে ডেকে বলি বিকেলে সময় হবে?

আমার যখন খুব খেলতে ইচ্ছে করে মাঠকে বলি কিশোরীর ফ্রক হও,

দাবার ঘুঁটিকে বলি আঙুল হয়ে যেতে পারবে?

আমার যখন খুব বমি করতে ইচ্ছে করে, ধর্মগুরুদের বেসিনে শুইয়ে দিই,

ভাত দেবার ক্ষমতা নেই ভাষণ দেবার নেতাকে বলি

ওরে হাঁ কর্ গলা শুকোয় নি?

যখন স্নান করতে ইচ্ছে করে আমার প্রেমিকাকে বলি অভিমান করো,

মা’কে বলি অভিশাপ দাও,

পাড়ার লোককে কখনও ছি ছি করতেও বলি।

আর রোজ রাতে ডানা ভেঙে বাড়ি ফেরার পর যখন মৃত্যুর ওপর শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে

তখন তোমাকে বলি চিতা হও – আগুনের মাদুর পাতো।

নয়তো কবরের মাটি হও।

ওরা তোমাকে দিয়ে আমায় ঢেকে দিক্।

কফিনও হতে পারো-

ওরা আমাকে তোমার ভেতর ভরে দিয়ে পেরেক ঠুকে দিক্।

ওরা যাকে পেরেক বলে তুমি তো জানো তার আসল নাম।

ওদের অজান্তেই আমাকে বন্দী করতে

ওরা তোমার গায়ে ভালোবাসা ঠুকে দেবে।

আমি তো জন্ম নিয়ে , খেলে এসে, জল খেয়ে , বমি করে, স্নান সেরে মৃত্যুকেই বেছে নিলাম।

তুমি একটা পেরেক সহ্য করবে না বলো ?

 

সুদীপ রাহা ফেচবুক