তরুস্পর্শতা | এনামুল খাঁন

যেই হাত আমায় ছেড়ে দিয়েছে বারবার,
আমি সেই হাত ধরতে চেয়েছি হাজারবার।
যেই হাতে হাত রাখবো বলে দেখেছি হাজার স্বপ্ন,
সেই হাতে’রি তৈরি পথে আমি দেখেছি এক বাস্তব দুঃস্বপ্ন।
তবু সেই হাত ধরার আশা আজো থেমে নেই…
আজো স্বপ্ন দেখে চলি সেই হাতের,
একটু আদরের,
একটু কোমলতার,
একটু ভালবাসার স্পর্শের,
যা হয়তো পাবো না কোনদিন।
তবু আমি থেমে নেই…
থেমে নেই আমার ভালবাসা…
থেমে নেই আমার অশ্রুধারা…
এনামুল খান
২০১৩, ১০ জুলাই।

প্রণোয়তা

দিন শেষ খুঁজে দেখি হারিয়ে গেছি আম,
রাত হলেই হাতড়ে খুঁজি কোথাই আছো তুমি।
দিনে-রাতে শূন্য সবই, নিস্ক্রিয় আমি,
বিষক্রিয়া হয় না আমার মনোস্ক্রিয়া চলে।
নির্দ্বিধাতে বাঁধা ভেঙ্গে আনবো শরীর মাঝে,
এখন দিনে-রাতে বাড়ছ তুমি আমার হৃদকোমলে।

১৭ জুন ২০১৪ ইং

তুমিহীনতা

আমি আধো ঘুমে তোমার পানে এখনো চেয়ে আছি,
রাত বাড়লেই কষ্ট গুলো আমায় কাঁদাতে আসে।
পাঁশ ফিরে পাঁশবালিশে হাতটা রেখে ভাবি,
থাকলে তুমি আমার কাছে কষ্ট যেত বনবাসে।

সকাল হলেই সব ভুলে যায়, ব্যস্ত থাকি নিজের মাঝে,
নানা কাজে দিনের বেলায় অবহেলায় আসো না তো তুমি।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, আসে গভীর রাত,
আমি আধো ঘুমে তোমার পানে চেয়ে থেকে যায়…।।

‘মা’

তোমার আদরে বাদর হয়েছি, দুষ্টু হয়েছি অনেক।

কতো বকেছো কতো মেরেছো, তাড়িয়ে দিয়েছ বাড়ি থেকে।

সন্ধা কালে খুজে ফিরেছো, ফিরিনি যখন কোলে।

তোমার বলে বলতে শেখা, মাথা উঁচু করে বাঁচা।

হৃদয় ভরা ভালোবাসা তোমার, জগত জুড়ে আছে।

যতই দিয়েছি কষ্ট ব্যাথা, তুমি ততই দিয়েছ ভালোবাসা।

বড় আমি হয়নি মাগো, তোমার কোলের সেই ছোট্ট খোকায় আছি।

তুমি দোআ দিয়ে ভরিয়ে দিও আমার জীবন।

আমি তোমার পায়ে থাকবো লুটিয়ে আমরণ।

 

২৪/১১/২০১৩ ইং

অস্পৃশ্যা অন্তনীলা | এনামুল খান

জিততে তোমার মন যেতে হবে বৃত্তের বাইরে।
নগ্ন পায়ে তুমি চলছ আমার অঞ্চল দিয়ে।
দৃশ্যত তোমার যায় না দেখা, থাকো অন্তরালে।
তোমায় ছোঁয়া সে তো অবান্তর কথা।
তোমার কথার ঝুরি আমার কানে বাজে সারাবেলা।
তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস আমার শিরায় উষ্ণতা।
তোমায় খুজে ফিরছি মন থেকে বনে।
চলে যাচ্ছি সেই বৃত্তের বাইরে।

২৪-০৪-২০১৪ইং

আমার যখন ইচ্ছে করে | সুদীপ রাহা

 

আমার যখন জন্ম নিতে ইচ্ছে করে,

তখন আমি রোদ্দুরের ওপর, জল কাদার ওপর, মাঠের কুয়াশার ওপর শুয়ে পড়ি।

আমার যখন জল তেষ্টা পায় তখন মেয়েদের কথাবার্তা শুনি, বন্ধুর বোনকে নাম ধরে ডাকি, প্রেমিকার পাশে গিয়েও বসি।

আমার যখন হাঁটতে ইচ্ছে করে , রাস্তাকে বলি সোনাঝুরি নিয়ে চলো, প্রেমিকার বাবাকে বলি- তাড়া করুন,

বন্ধুকে ডেকে বলি বিকেলে সময় হবে?

আমার যখন খুব খেলতে ইচ্ছে করে মাঠকে বলি কিশোরীর ফ্রক হও,

দাবার ঘুঁটিকে বলি আঙুল হয়ে যেতে পারবে?

আমার যখন খুব বমি করতে ইচ্ছে করে, ধর্মগুরুদের বেসিনে শুইয়ে দিই,

ভাত দেবার ক্ষমতা নেই ভাষণ দেবার নেতাকে বলি

ওরে হাঁ কর্ গলা শুকোয় নি?

যখন স্নান করতে ইচ্ছে করে আমার প্রেমিকাকে বলি অভিমান করো,

মা’কে বলি অভিশাপ দাও,

পাড়ার লোককে কখনও ছি ছি করতেও বলি।

আর রোজ রাতে ডানা ভেঙে বাড়ি ফেরার পর যখন মৃত্যুর ওপর শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে

তখন তোমাকে বলি চিতা হও – আগুনের মাদুর পাতো।

নয়তো কবরের মাটি হও।

ওরা তোমাকে দিয়ে আমায় ঢেকে দিক্।

কফিনও হতে পারো-

ওরা আমাকে তোমার ভেতর ভরে দিয়ে পেরেক ঠুকে দিক্।

ওরা যাকে পেরেক বলে তুমি তো জানো তার আসল নাম।

ওদের অজান্তেই আমাকে বন্দী করতে

ওরা তোমার গায়ে ভালোবাসা ঠুকে দেবে।

আমি তো জন্ম নিয়ে , খেলে এসে, জল খেয়ে , বমি করে, স্নান সেরে মৃত্যুকেই বেছে নিলাম।

তুমি একটা পেরেক সহ্য করবে না বলো ?

 

সুদীপ রাহা ফেচবুক

শব্দের প্রতিধ্বনি – আকছারুল ইসলাম

জীবন এখানে এলোমেলো এক শব্দ

হাওয়ায়-হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া

বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে।

 

এই নদীতীরে গঙ্গার ভরাঘট

দেবমন্দির-‘কবর ভুমি’ শিবালয়

উপাসনার কেন্দ্রস্থল সবকিছুতেই-

এক জীবন-জীবন্ত একই জীবন।

 

এই ললনার মুখশ্রী তৃষিত হাঁসি

চন্দ্র মল্লিকার ঝরা পাপড়ি গুলো

খেয়ায় ভেসে আসা নীল দিগন্তের

পানসি মেঘের ভেলা -আর

আকাশ জুড়ে শুধু জীবন নামের

এক শব্দ, শুধু শব্দ, শুধু জীবন

শব্দ শব্দই জীবন।

 

দেহ মনে গাইবরে মাটির কানে কানে

শব্দ শুধু প্রতিধ্বনি -এক এক শব্দ-

আর শব্দই জীবন।